সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি :
মোঃ আলিম উদ্দিন (৪৩)। ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া একনিষ্ঠ কর্মী।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন দয়ালের হাত ধরেই মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। আলিম উদ্দিন বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের সাভার থানা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন।
এরপর ঢাকা-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও ঢাকার সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি দলীয় ব্যানারকে ব্যাবহার করে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন মাদক ব্যাবসায়।
২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর শৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই ভোল পাল্টে যোগ দেন বিএনপির রাজনীতিতে। বর্তমানে তিনি সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে আছেন।
বিএনপির এই দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে শুধু নিজের এলাকা পানপাড়া-ভাওয়ালিপাড়া নয় পুরো তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন জুড়ে মাদক সম্রাজের নিয়ন্ত্রক বনে যান এই আলিম উদ্দিন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে তার বোন সেতেরা ও তার ভাগিনা ডালিম, সেলিম, রাকিব, বাবু ও বাবুর স্ত্রী মনি ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইন বিক্রি করেন। এছাড়াও আলিম উদ্দিনের ভাইয়ের স্ত্রী ও তার ভাতিজা রাসেল গাজা বিক্রি করেন।
রমরমা এই মাদক ব্যাবসার নিয়ন্ত্রণ করেন আলিম উদ্দিন। তাকে প্রশাসন থেকে শুরু করে সার্বিক সহয়তা করেন ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, তারা স্বপরিবারে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করেন। এতে এলাকার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ও যুব সমাজ মাদকের ভয়াবহ খপ্পরে পড়ে তাদের জীবন ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক ব্যক্তি বলেন, তাদের পরিবারের সকলের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার তাদেরকে গ্রেফতার করে মামলা দিয়েছেন। জামিনে এসে তারা আবারও শুরু করেন মাকদ ব্যাবসা।
কয়েকদিন আগেই আলিম উদ্দিনের ভাগিনা সেলিমকে হেমায়েতপুর সেনাবাহিনী ক্যাম্প গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠান। কয়েকদিন পরেই জামিনে এসে আবারও শুরু করেছেন মাদক বিক্রি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, এদের বিরুদ্ধে এখনই স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থামানো না গেলে সমাজে ছড়িয়ে পড়বে মাদকের ভয়াবহতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলতে চাই দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি আমাদের বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি' সাংগঠনিক ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তা না হলে জনগণের কাছে আমাদের (বিএনপির) দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

0 Comments